রবিবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০১৬

ভারতে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরল ১৫ শিশু

অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে কারাভোগ শেষে দিনাজপুরের হাকিমপুর হিলি সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরল ১৫ বাংলাদেশি শিশু।

রোববার দুপুর ১২টায় হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট গেটের শুন্যরেখা দিয়ে তাদের হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট পুলিশের কাছে ফেরত দেয় ভারতের হিলি অভিবাসন পুলিশ।


বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি ও জাস্টিস এ্যান্ড কেয়ারের উদ্যোগে তাদের দেশে ফেরত আনা হয়।

এ সময় সেখানে ভারতের হিলি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ক্যাম্প কমান্ডার এসি রাম সিং ও বর্ডার গার্ড (বিজিবি) হিলি সিপি ক্যাম্প কমান্ডার নায়েক সুবেদার ফজলুল হক ছিলেন।

ফেরত আসা শিশুরা হলো, কুষ্টিয়ার বারেক আলীর ছেলে মইদুল ইসলাম (১৪), একই এলাকার রেজাউল হকের ছেলে মানিক (১৪), নুরু পাগলার ছেলে মো. ঝন্টু (১৫), মোশারফ হোসেনের ছেলে আশরাফুল মোল্লা (১৫), কুড়িগ্রামের সুধির চন্দ্রের ছেলে কার্তিক কুমার (১৪), একই এলাকার ষষ্টি রায়ের ছেলে প্রসেনজিৎ রায় (৯), গাইবান্ধার আতাউল ইসলামের ছেলে মমিন ইসলাম (১৪), সুনামগঞ্জের সুরুজ মিয়ার ছেলে রাসেল মিয়া (১৩), যশোরের মজিবর শেখের ছেলে রানা শেখ (১০), ঢাকার মজিবর রহমানের ছেলে রিফাত হোসেন আনার (১৪), একই এলাকার আমজাদ খানের ছেলে মো. ফয়সাল (১৫), আনোয়ার হোসেনের ছেলে মো.স্বপন (১২), চুয়াডাঙ্গার জসিম উদ্দিনের ছেলে জিল্লুর রহমান (১৫), ঠাকুরগাওয়ের মহেষ চন্দ্র বর্মণের ছেলে অবিনাশ রায় (১৪) ও বগুড়ার রোস্তম হালদারের ছেলে সাইফুল হালদার (১৫)।

ফেরত শিশুরা জানায়, দালালের মাধ্যমে জনপ্রতি দেড় হাজার টাকা করে দিয়ে হিলি সীমান্তের দক্ষিণপাড়া দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে তারা। পরে ভারতের হিলি থেকে কলকাতা যাওয়ার পথে ভারতের বালুরঘাট বাসস্ট্যান্ডে বিএসএফ তাদের আটক করে।
ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুরের চাইল্ড লাইনের কো-অর্ডিনেটর সুরুজ দাশ জানান, হিলি, বালুরঘাট, পতিরামের বিভিন্ন স্থানে বিএসএফ তাদের আটক করে। পরে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। বয়স কম হওয়ায় তাদের বালুরঘাট শোভায়ন হোমে রাখার নির্দেশ দেন আদালত। সেখানে তারা এক থেকে তিন বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে আটক থাকে। প্রত্যাবর্তন চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ হাইকমিশন তাদের ট্রাভেল পারমিট দেওয়ার ফলে আজ তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

এসব শিশুর বয়স ৭ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির দিনাজপুরের এরিয়া কোঅর্ডিনেটর সানাউল সায়েম জানান, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ও বাংলাদেশ সরকারের মাধ্যমে তাদের আজ দেশে ফেরত আনা হলো।

হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ওসি মো. রফিকুজ্জামান জানান, আমরা শিশুদের তাদের অভিভাবকের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছি।

রংপুরে বৃহস্পতিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল

জাতীয় পার্টি (জাপা) রংপুর মহানগর শাখার সদস্য সচিব এস এম ইয়াসিরের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আগামী বৃহস্পতিবার রংপুরে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দেওয়া হয়েছে।

আজ রোববার দুপুরে জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির উদ্যোগে কাচারী বাজারে এক প্রতিবাদ সমাবেশে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এ ছাড়া আজ ইয়াসিরকে দেখতে হাসপাতালে যান দলের চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। তিনি হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, রংপুরে জাতীয় পার্টির ত্যাগী নেতা ইয়াসিরকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে জখম করা হয়। এ ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের মাধ্যমে রংপুরকে অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন বক্তারা।

মহানগর জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন।

গত শুক্রবার জুমার নামাজ পড়ে মুন্সিপাড়া কবরস্থানে ইয়াসির তাঁর বাবার কবর জিয়ারত করতে যান। জিয়ারত শেষে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে কবরস্থানের সামনে তাঁর মাথায় কুপিয়ে জখম করা হয়।

এ ঘটনার প্রতিবাদে ও দোষী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আজ বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা জাতীয় পার্টির সেন্ট্রাল রোডের কার্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে দুপুর ১২টায় শহরের কাচারি বাজারে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনের সড়কে এসে শেষ হয় ও সেখানে সমাবেশ করে।

এদিকে সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব এস এম ইয়াসিরকে শনিবার রাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাদের জিলানী জানান, জাপা নেতা ইয়াসিরকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। তবে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান চলছে।

শনিবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০১৬

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদল বড়পুকুরিয়া পরিদর্শনে

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া পাথরখনি ও বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি পরির্দশন করেছেন।

সরকারের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম এমপির নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি শনিবার বেলা ১১টায় কয়লাখনির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে দুপুরে খনির আন্ডারগ্রাউন্ড পরিদর্শন করেন।

এ সময় বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুজ্জামান, মধ্যপাড়া পাথরখনির মহাব্যবস্থাপক মীর মো. আব্দুল হান্নান, জিএম নেয়াজুর রহমান ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া-ট্রেস্ট কনসোর্টিয়ামের প্রতিনিধি ও খনির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তাজুল ইসলাম এমপি পরিদর্শনকালে বলেন, ‘কৃষিনির্ভর অঞ্চল হলেও এখন শিল্প কলকারখানা গড়ে ওঠায় আর্থ-সামাজিক ও জীবন মান উন্নয়নে দিনাজপুরের পার্বতীপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি এবং মধ্যপাড়া পাথরখনি দেশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।’
উত্তরাঞ্চলে পার্বতীপুর, ফুলবাড়ী, বিরামপুর, নবাবগঞ্জ ও রংপুরের খালাস পীরের মাটির নিচে যে সম্পদ রয়েছে তা অফুরন্ত। এই সম্পদ দেশের কাজে লাগাতে পারলে অর্থনীতির পথ প্রসার হবে এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে উন্নয়ন ঘটবে।

রংপুর বিভাগে গ্যাসের দাবীতে মানবন্ধন

রংপুর বিভাগের উন্নয়নে গ্যাস সরবরাহের মাধ্যমে শিল্প-কলকারখানা স্থাপনের সুযোগ সৃষ্টির দাবীতে রংপুরে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।


শনিবার সকালে রংপুর বিভাগ সমিতি ঢাকার আয়োজনে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

পিছিয়ে থাকা রংপুর বিভাগের মানুষের উন্নয়নে গ্যাস সরবরাহের মাধ্যমে শিল্প-কলকারখানা স্থাপনের সুযোগ সৃষ্টির দাবীতে রংপুরে মানববন্ধন ও সমাবেশ হয়েছে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন রংপুর বিভাগ সমিতি ঢাকার সভাপতি এ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল নাসের । বক্তব্য রাখেন সংগঠনের  সাধারণ সম্পাদক ডাঃ নজরুল ইসলাম, ডাঃ সৈয়দ মামুনুর রহমান, মফিদুল ইসলাম, জাফরুল ইসলাম, রংপুর আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট আবদুল হক, সাধারন সম্পাদক আবদুল মালেক সহ আরো অনেকে।

সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করে শিল্প-কলকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির দাবী জানান।